প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ MCQ। বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের রচনাকাল, লেখক ও বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্নোত্তর। — পৃষ্ঠা 2
মোট 99 টি প্রশ্ন | পৃষ্ঠা 2 / 7চর্যাপদে কতজন কবির পদ রয়েছে?
ক
২৭ জন
খ
২৪ জন
গ
২৫ জন
ঘ
২৬ জন
সঠিক উত্তর:
খ (২৪ জন)
ব্যাখ্যা:
আবিষ্কৃত পুঁথিটিতে ৫০টি চর্যায় মোট ২৪ জন সিদ্ধাচার্যের নাম পাওয়া যায়। এঁরা হলেন: লুই, কুক্কুরী, বিরুআ, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কাম্বলাম্বর, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, শবর, আজদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তান্তী পা, লাড়ীডোম্বী। এঁদের মধ্যে লাড়ীডোম্বীর পদটি পাওয়া যায়নি। ২৪, ২৫ ও ৪৮ সংখ্যক পদগুলি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিতে না থাকলেও ডক্টর প্রবোধচন্দ্র বাগচী আবিষ্কৃত তিব্বতি অনুবাদে এগুলির রচয়িতার নাম উল্লিখিত হয়েছে যথাক্রমে কাহ্ন, তান্তী পা ও কুক্কুরী। এই নামগুলির অধিকাংশই তাঁদের ছদ্মনাম এবং ভনিতার শেষে তাঁরা নামের সঙ্গে 'পা' (<পদ) শব্দটি সম্ভ্রমবাচক অর্থে ব্যবহার করতেন।
চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করে -
ক
লুইপা
খ
কাহ্নপা
গ
ভসুকুপা
ঘ
শবরপা
সঠিক উত্তর:
খ (কাহ্নপা)
ব্যাখ্যা:
কাহ্নপা সোমপুর মহাবিহারে সাধনা করতেন। তিনি হেবজ্র, যমান্তক প্রভৃতি বজ্রযান তন্ত্রসাধনার ওপর পঞ্চাশটির ওপর গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি চর্যাপদের তেরোটি পদ রচনা করেন। তবে কাহ্নপা রচিত ২৪তম পদটি পাওয়া যায়নি।
বাংলা লিপির উৎস -
ক
সংস্কৃত লিপি
খ
চীনা লিপি
গ
আরবী লিপি
ঘ
ব্রাক্ষী লিপি
সঠিক উত্তর:
ঘ (ব্রাক্ষী লিপি)
ব্যাখ্যা:
ব্রাহ্মী একসময় ইংরেজিতে "পিন - ম্যান" নামে পরিচিত ছিল। ৫ম শতকের গুপ্তলিপিকে মাঝেমাঝে "পরবর্তী ব্রাহ্মী" বলা হয়। ব্রাহ্মীলিপি থেকে অসংখ্য লিপি উত্পন্ন হয়েছিল। বর্তমানে অনেকগুলো আধুনিক লিপি ভারতসহ পূর্বএশিয়ায় সগৌরবে চলছে। তাই ব্রাহ্মী বিশ্বের সর্বাধিক প্রভাবক লিপি হিসেবে সমাদৃত। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ১৯৮টি লিপি ব্রাহ্মী থেকে উত্পন্ন হয়েছে। লিপিটির নিজস্ব সংখ্যা ব্যবস্থা আছে। ব্যবস্থাটি ইন্দো - আরবী সংখ্যা পদ্ধতির মৌলিক যোগান দিয়েছে যা এখন সারা বিশ্বে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা-
ক
ব্রজবুলি
খ
সন্ধ্যাভাষা
গ
বঙ্গ-কামরূপী
ঘ
জগাখিচুড়ি
সঠিক উত্তর:
গ (বঙ্গ-কামরূপী)
ব্যাখ্যা:
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা বঙ্গ কাম্রুপী। বিশিষ্ট ভাষাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৮৮৫ - ১৯৬৯ খ্রি.) ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৬৫), ‘ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১) এবং ‘বাংলা ব্যাকরণ (১৯৬৫) নামক ভাষাতত্ত্ববিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেন।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?
ক
Buddhist Mystic Songs
খ
চর্যাগীতিকোষ
গ
হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
ঘ
চর্যাগীতিকা
সঠিক উত্তর:
ক (Buddhist Mystic Songs)
ব্যাখ্যা:
ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫ - ১৯৬৯) সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ - 'Buddhist Mystic Songs' (১৯৬০) । তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অনুবাদ গ্রন্থ: দীওয়ান হাফিজ, অমিয়শতক, রুবাইয়াত - ই - ওমর খ্যায়াম , বিদ্যাপতি শতক, মহররম শরীফ, Hundred Sayings of the Holy Prophet । তার ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ভাষা ও সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ এবং বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত। তার সম্পাদনায় রচিত হয় - বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান ।
চর্যাপদে কোন পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে?
ক
১০ নং পদ
খ
১৮ নং পদ
গ
২৩ নং পদ
ঘ
১৬ নং পদ
সঠিক উত্তর:
গ (২৩ নং পদ)
ব্যাখ্যা:
চর্যার পুঁথিতে সর্বাধিক সংখ্যক পদের রচয়িতা কাহ্ন বা কাহ্নপাদ। তিনি কৃষ্ণাচার্য, কৃষ্ণপাদ ও কৃষ্ণবজ্র নামেও পরিচিত। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা ১৩টি। পুঁথিতে তাঁর মোট ১২টি পদ (পদ – ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫) পাওয়া যায়। তাঁর রচিত ২৪ নম্বর পদটি পাওয়া যায়নি।
ের প্রাচীন যুগ বলা হয় কোন সময়কে?
ক
৩৫০ থেকে ৫৫০ খ্রিষ্টাব্দ
খ
৭৫০ থেকে ১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দ
গ
১১৫০ থেকে ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দ
ঘ
৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ (৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ)
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাস প্রধানত তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত:[১][২] আদিযুগ বা প্রাচীন যুগ (আনুমানিক ৬৫০ খ্রি. মতান্তরে ৯৫০ খ্রি.–১২০০ খ্রি.) মধ্যযুগ (১২০১ খ্রি.–১৮০০ খ্রি.) আধুনিক যুগ (১৮০১ খ্রি.–বর্তমান কাল)
ের প্রাচীনতম নির্দশন ”চর্যাপদ” পাওয়া যায়‘
ক
কলিকাতায়
খ
ভুটানে
গ
নেপালে
ঘ
ঢাকায়
সঠিক উত্তর:
গ (নেপালে)
ব্যাখ্যা:
১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন। চর্যাপদের আবিষ্কারক মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। ১৯০৭ সালে তিনি নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। এটি মূলত বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত গান ও দোহা।
চর্যাপদ আবিষ্কার হয় কোন দেশ থেকে?
ক
চীন
খ
মায়ানমার
গ
ভারত
ঘ
নেপাল
সঠিক উত্তর:
ঘ (নেপাল)
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যের পাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন ‘চর্যাপদ'। ‘চর্যাপদ হলো গানের সংকলন । মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজগ্রন্থশালা তথা নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ‘চর্যাপদ আবিস্কার করেন।
চর্যাপদ একপ্রকার-
ক
ছড়া
খ
গান
গ
রম্য রচনা
ঘ
গল্প
সঠিক উত্তর:
খ (গান)
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের শব্দগুলো অপরিচিত, শব্দ ব্যবহারের রীতি বর্তমানের রীতি থেকে ভিন্ন। এর কবিতাগুলো পড়ে বুঝতে কষ্ট হয়। এজন্য চর্যাপদের ভাষাকে ‘আলো - আধারি ভাষা বা ‘সন্ধ্যা ভাষা বলে। চর্যাপদের কবিতাগুলো গানের মতো গাওয়া হতো। তাই এগুলো একই সাথে গান ও কবিতা।
ের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন কোনটি?
ক
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
খ
মনসামঙ্গল
গ
বৈষ্ণব পদাবলী
ঘ
চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
ঘ (চর্যাপদ)
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন - চর্যাপদ। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার হতে এটি উদ্ধার করেন৷
বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে নিম্নোক্ত কোন ভাষা থেকে?
ক
সংস্কৃত
খ
প্রাকৃত
গ
অপভ্রংশ
ঘ
পালি
সঠিক উত্তর:
খ (প্রাকৃত)
ব্যাখ্যা:
প্রাকৃত ভাষা বলতে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে লোকমুখে প্রচলিত স্বাভাবিক ভাষাগুলিকে বোঝায়। প্রাকৃত ভাষাগুলি ইন্দো - ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের ইন্দো - ইরানীয় শাখার ইন্দো - আর্য শাখার প্রাচীন নিদর্শন। এগুলি সংস্কৃতের মত মার্জিত সাহিত্যিক ভাষা ছিল না। তবে পরবর্তীকালে সংস্কৃতের মত এগুলিও মৃত ভাষায় পরিণত হয়। প্রাকৃত ভাষাগুলির মধ্যে পালি ভাষা বৌদ্ধ সাহিত্যের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হত। প্রাকৃত ভাষাগুলি থেকেই নানা বিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক ইন্দো - আর্য ভাষাগুলির উদ্ভব হয়েছে। মাগধী প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা, অসমীয়া, বিহারী, ও ওড়িয়া ভাষা; শৌরসেনী প্রাকৃত ভাষা থেকে পশ্চিমী হিন্দি ও পাঞ্জাবি ভাষা; অর্ধমাগধী প্রাকৃত ভাষা থেকে পূর্বী হিন্দি; এবং মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত থেকে মারাঠি ভাষার উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করা হয়।
চর্যাপদ কোন ধর্মাবলম্বীদের সাহিত্য ?
ক
সনাতন হিন্দু
খ
সহজিয়া বোদ্ধ
গ
হরিজন
ঘ
জৈন ধর্ম
সঠিক উত্তর:
খ (সহজিয়া বোদ্ধ)
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সাহিত্য।
চর্যাপদ প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
ক
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
খ
শ্রীরামপুর মিশন
গ
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ঘ
এশিয়াটিক সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
ক (বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ)
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশিত হয়।
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত চর্যাপদ কে সম্পাদনা করেন?
ক
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
খ
ড. দীনেশচন্দ্র
গ
শ্রী হরলাল রায়
ঘ
শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
ঘ (শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রী)
ব্যাখ্যা:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত চর্যাপদ সম্পাদনা করেন শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক।
0
টি সিলেক্টেড (লগইন ছাড়া ২০টি)