বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও উপজাতি
ভূগোল, পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থা বিষয়ের বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও উপজাতি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও ব্যাখ্যাসহ সমাধান। বিসিএস ও চাকরির সেরা প্রস্তুতি। — পৃষ্ঠা 2
মোট 135 টি প্রশ্ন | পৃষ্ঠা 2 / 9বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কবে?
ক
১৯৭২ সাল
খ
১৯৭৪ সাল
গ
১৯৭৭ সাল
ঘ
১৯৭৩ সাল
সঠিক উত্তর:
খ (১৯৭৪ সাল)
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয় ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রতি ১০ বছর পরপর ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২১ সালে না হয়ে একবছর পিছিয়ে যায়। ২০২২হচ্ছে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দেশের ষষ্ঠ জাতীয় আদমশুমারি। এটি বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল আদমশুমারি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোরতত্ত্বাবধানে ২০২২ সালের ১৫ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোণা জেলায় বন্যা থাকায় ২৮ জুন ২০২২ পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান ছিল। তবে উক্ত আদমশুমারিতে সংগৃহীত তথ্যের মানদণ্ড হিসেবে ১৫ জুন ২০২২ তারিখটি ব্যবহৃত হয়।
কোন উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম?
ক
রাখাইন
খ
পাঙন
গ
খিয়াং
ঘ
মারমা
সঠিক উত্তর:
খ (পাঙন)
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৫ টি নৃ - গোষ্ঠী বসবাস করে। এর মধ্যে একমাত্র পাঙন উপজাতিরা মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় বসবাস করে। এরা পারিবারিকভাবে পিতৃতান্ত্রিক । বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের মণিপুর , আসাম ও ত্রিপুরাতে ও অধিকসংখ্যক পাঙন জনসাধারণ বসবাস করছে।
জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলাদেশের ছোট থানা কোনটি?
ক
থানচি
খ
রাজস্থলী
গ
শ্যামনগর
ঘ
বিমানবন্দর, ঢাকা
সঠিক উত্তর:
ঘ (বিমানবন্দর, ঢাকা)
ব্যাখ্যা:
বর্তমানে জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলাদেশের ছোট থানা - বিমানবন্দর (ঢাকা)। জনসংখ্যায় ছোট উপজেলা থানচি (বান্দরবান) , আয়তনে বৃহত্তম থানা - শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) ও ক্ষুদ্রতম থানা - ওয়ারি (ঢাকা) । অন্যদিকে শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) হলো বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা ।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে নারী-পুরুষের অনুমাত ----
ক
১০০ ঃ ১০৬
খ
১০০ঃ১০০.৩
গ
১০০ ঃ ১০০
ঘ
১০০ ঃ ১০০.৬
সঠিক উত্তর:
খ (১০০ঃ১০০.৩)
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের সর্বশেষ (পঞ্চম) আদমশুমারি ২০১১ অনুযায়ী নারীর সংখ্যা ৭,৪৭,৯১,৯৭৮ জন এবং পুরুষের সংখ্যা ৭,৪৯,৮০,৩৮৬ জন। নারী ও পুরুষের অনুপাত ১০০ঃ ১০০.৩ ।
যে জেলায় হাজংদের বসবাস নেই ----
ক
শেরপুর
খ
সিলেট
গ
নেত্রকোনা
ঘ
ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
খ (সিলেট)
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশে মোট ৪৫ টি ক্ষুদ্র - নৃগোষ্ঠী বসবাস করে। এদের মধ্যে হাজং উপজাতির বসবাস শেরপুর, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায়। সিলেট জেলায় বসবাসকারী উপজাতি হলো খাসি (খাসিয়া ) , গারো, নায়েক, পাত্র, বীন, বোনাজ, মুণ্ডা, মণিপুরী ও ভূমি হাজং ছাড়াও ময়মনসিংহ জেলায় গারো, বর্মণ ও ডালু উপজাতির বসবাস রয়েছে। রাজবংশী ও কোচ উপজাতি বাস করে শেরপুর জেলায়।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে Household প্রতি জনসংখ্যা ----
ক
৪.৪ জন
খ
৫.৪ জন
গ
৫.৫ জন
ঘ
৫.০ জন
সঠিক উত্তর:
ক (৪.৪ জন)
ব্যাখ্যা:
পঞ্চম আদমশুমারি ২০১১ অনুযায়ী বাংলাদেশে House hold প্রতি জনসংখ্যা বা খানা প্রতি জনসংখ্যা ৪.৪ জন।
মণিপুরী উপজাতি কোন জেলায় বাস করে?
ক
কুমিল্লা
খ
রাঙ্গামাটি
গ
ময়মনসিংহ
ঘ
সিলেট
সঠিক উত্তর:
ঘ (সিলেট)
ব্যাখ্যা:
মণিপুরী উপজাতি সিলেট জেলায় বাস করে। মণিপুরী জাতি ভারত ও বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নাম। এদের আদি নিবাস ভারতের মণিপুর রাজ্যে। মণিপুরীদের নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা, সাহিত্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি রয়েছে। ভারতের মণিপুর, আসাম, ও ত্রিপুরা রাজ্যের ও বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোক বাস করে।
বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা কত (অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭)?
ক
১৬ কোটি ১৭ লাখ
খ
১২ কোটি ২০ লাখ
গ
১১ কোটি ৫০ লাখ
ঘ
১৩ কোটি ২৫ লাখ
সঠিক উত্তর:
ক (১৬ কোটি ১৭ লাখ)
ব্যাখ্যা:
দেশে সর্বশেষ আদমশুমারি হয়েছে ২০১১ সালে। ওই সময়ে মোট জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ১৭ লাখ। এরপর আর কোনো আদমশুমারি হয়নি। প্রচলিত নিয়মে পাঁচ বছর পরপর এ শুমারি হওয়ার কথা। তবে চলতি বছর ডিজিটাল পদ্ধতিতে একটি আদমশুমারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন শুমারি না হওয়ায় ২০১১ সালের শুমারির ভিত্তিতে ২০১৬ সালের জনসংখ্যার প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৬ কোটি ৬২ লাখ। ওই শুমারি অনুযায়ী প্রতিবছর জনসংখ্যা বাড়ছে ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে। এ হিসাবে ২০১৭ সালে জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৮৫ লাখ, ২০১৮ সালে ১৭ কোটি ৮ লাখ, ২০১৯ সালে ১৭ কোটি ৩১ লাখ, ২০২০ সালে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ, ২০২১ সালে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ এবং ২০২২ সালে জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১৮ কোটি ৩ লাখ। এর সঙ্গে আরও আছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। বেসরকারি হিসাবে তাদের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি। সরকারি হিসাবে ১১ লাখ। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করে বাংলাদেশের জনসংখ্যা কমপক্ষে ২০ কোটি। সূত্রঃ যুগান্তর
পিতৃতান্ত্রিক উপজাতি কারা?
ক
মারমা
খ
সাঁওতাল
গ
গারো
ঘ
চাকমা
সঠিক উত্তর:
ঘ (চাকমা)
ব্যাখ্যা:
মারমা, চাকমা ও সাঁওতাল এরা সবাই পিতৃতান্ত্রিক উপজাতি। গারোরা মাতৃতান্ত্রিক উপজাতি।
জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কত? (২০১২)
ক
অষ্টম
খ
দশম
গ
সপ্তম
ঘ
নবম
সঠিক উত্তর:
ক (অষ্টম)
ব্যাখ্যা:
বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট ২০১৪ অনুসারে জনসংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম, এশিয়ায় পঞ্চম, মুসলিম বিশ্বের চতুর্থ, সার্কভুক্ত দেশে তৃতীয়।
মণিপুরীরা কোথায় বাস করে?
ক
সিলেটে
খ
দিনাজপুরে
গ
কুমিল্লায়
ঘ
চট্টগ্রামে
সঠিক উত্তর:
ক (সিলেটে)
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে মণিপুরী জনগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। এরা সাতটি গোত্রে বিভক্ত। এগুলোকে ‘য়েক বা ‘শালাই বলা হয়। মণিপুরী সমাজ পিতৃপ্রধান। এদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ।
উপজাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘বিরিসিরি’ কোন জেলায় অবস্থিত?
ক
নেত্রকোণা
খ
পার্বত্য চট্টগ্রাম
গ
সিলেট
ঘ
ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ক (নেত্রকোণা)
ব্যাখ্যা:
বিরিশিরি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম। শুরুতে এটি ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও দুর্গাপুর পৌরসভা হওয়ার সাথে সাথে সদরের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় গ্রামটিকে ওয়ার্ড হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় স্থানীয় অধিবাসীদের ৬০ ভাগ গারো আদিবাসী ৩০ ভাগ মুসলিম, বাকি ১০ ভাগ হিন্দু ও অন্যান্য জনগোষ্ঠী।
বাংলাদেশে কোন উপজাতির লোকসংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
ক
সাঁওতাল
খ
চাকমা
গ
মারমা
ঘ
গারো
সঠিক উত্তর:
খ (চাকমা)
ব্যাখ্যা:
চাকমারা মঙ্গোলীয় জাতির একটি শাখা। বর্তমান মিয়ানমারের আরাকানে বসবাসকারী ডাইংনেট জাতিগোষ্ঠীকে চাকমাদের একটি শাখা হিসেবে গণ্য করা হয়। এবং এরা প্রধানত থেরাবাদ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। বুদ্ধপুর্ণিমা ছাড়া তাদের অন্যতম প্রধান আনন্দ উৎসব হচ্ছে বিজু। চাকমাদের জনসংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ।
চাকমা সম্প্রদায় কোন জেলার অধিবাসী ?
ক
ময়মনসিংহ
খ
বগুড়া
গ
রাঙ্গামাটি
ঘ
সিলেট
সঠিক উত্তর:
গ (রাঙ্গামাটি)
ব্যাখ্যা:
চাকমা সম্প্রদায় বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলায় বসবাস করে। ময়মনসিংহে বসবাসকারী উপজাতি হলো গারো, বর্মণ ও ডালু। সিলেটে বসবাসকারী উপজাতি সুন্তা, রবিদাস, কুর্মি, খাসিয়া, নায়েক, পাত্র, বীন, বোনাজ, ভূমিজ ও মণিপুরী। মাহালী ও সাঁওতাল উপজাতি বগুড়ায় বসবাস করে।
পার্বত্য চট্রগ্রামে কয়টি উপজাতি বাস করে?
ক
১১
খ
১৩
গ
১৫
ঘ
১২
সঠিক উত্তর:
ঘ (১২)
ব্যাখ্যা:
পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী১২টি। বাংলাদেশে সিলেট, দিনাজপুর, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ইত্যাদি অঞ্চলে অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী লোক বাস করে, তবে বেশিরভাগ উপজাতি জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করে। এখানে এগারোটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।
0
টি সিলেক্টেড (লগইন ছাড়া ২০টি)