বাংলা ব্যকরণ

বাংলা ব্যাকরণ MCQ বিসিএস ও সরকারি পরীক্ষার জন্য। বাংলা ব্যাকরণের সকল অধ্যায় নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর।

মোট 594 টি প্রশ্ন | পৃষ্ঠা 1 / 40
1
কোন বাক্যে 'মাথা' শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত?
ক তিনিই সমাজের মাথা
খ লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল
গ মাথা নেই তার মাথা ব্যথা
ঘ মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
সঠিক উত্তর: ঘ (মাথা খাটিয়ে কাজ করবে)
ব্যাখ্যা:
বাক্যে মাথা বলতে 'বুদ্ধি' কাজে লাগিয়ে কাজ করার কথা বুঝানো হয়েছে।
2
কোন শব্দে বিদেশী উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে ?
ক নিখুঁত
খ অবহেলা
গ নিমরাজী
ঘ আনমনা
সঠিক উত্তর: গ (নিমরাজী)
ব্যাখ্যা:
বিদেশি উপসর্গ মোট ২০ টি আরবি উপসর্গ - - - > কিরে (লা)লু এই (গর)মে (বাজে) (আম) (খাস) ? . ইংরেজি উপসর্গ - - - > (হেড) (সাব) বাড়িতে (হাফ) এবং স্কুলে (ফুল) হাতা শার্ট পরেন। . হিন্দি উপসর্গ - - - > (হর) (হরেক) . ফারসি উপসর্গ - - - > (নিম) বাবু (বে)আদব (বদ)মাশ (না)লায়েক (কম) (ব)খত (ফি)রোজকে (কার)চুপি করে (দর)বার থেকে (বর)খাস্ত করে দেন ।
3
'বর্ণচোরা' বাগধারাটির অর্থ হলোঃ
ক পাকা আম
খ কপটহীন ব্যক্তি
গ ভণ্ডসাধু
ঘ কপটচারী
সঠিক উত্তর: ঘ (কপটচারী)
ব্যাখ্যা:
বাগধারা শব্দের আভিধানিক অর্থ কথার বচন ভঙ্গি বা ভাব বা কথার ঢং। বাক্য বা বাক্যাংশের বিশেষ প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় বাগধারা। বিশেষ প্রসঙ্গে শব্দের বিশিষ্টার্থক প্রয়োগের ফলে বাংলায় বহু বাগধারা তৈরী হয়েছে। এ ধরনের প্রয়োগের পদগুচ্ছ বা বাক্যাংশ আভিধানিক অর্থ ছাপিয়ে বিশেষ অর্থের দ্যোতক হয়ে ওঠে। যে পদগুচ্ছ বা বাক্যাংশ বিশিষ্টার্থক প্রয়োগের ফলে আভিধানিক অর্থের বাইরে আলাদা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বলা হয় বাগধারা। বাগধারা ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করে, ভাবের ইঙ্গিতময় প্রকাশ ঘটিয়ে বক্তব্যকে রসমধুর করে উপস্থাপন করে। এদিক থেকে বাগধারা বাংলা সাহিত্যের বিশেষ সম্পদ। বাগধারা গঠনে বিভিন্ন শব্দের ব্যবহারকে শব্দের রীতিসিদ্ধ প্রয়োগও বলা হয়। একে বাগবিধিও বলা হয়ে থাকে। বর্ণচোরা = কপটচারী বর্ণচোরা আম = কপট ব্যক্তি
4
'নিরানব্বইয়ের ধাক্কা' বাগধারাটির অর্থঃ
ক তীরে পৌঁছার ঝাক্কি
খ মুমূর্ষু অবস্থা
গ আসন্ন বিপদ
ঘ সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি
সঠিক উত্তর: ঘ (সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি)
ব্যাখ্যা:
টাকা জমানোর লোভ।
5
'কোথায় থাকা হয়' এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
ক কর্তৃবাচ্য
খ ভাব ভাচ্য
গ ক্রিয়া বাচ্য
ঘ কর্মবাচ্য
সঠিক উত্তর: খ (ভাব ভাচ্য)
ব্যাখ্যা:
ভাববাচ্য : বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রকাশিত হলে তাকে ভাববাচ্য বলে। এ ধরনের বাক্যে কর্ম থাকে না এবং কর্তাও প্রধান হয় না। কাউকে কোন কিছু সরাসরি না বলে ঘুরিয়ে বলতে গেলে ভাববাচ্যে বলা যায়। এ ধরনের বাক্যে কর্তায় - ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি হয়। নামপুরুষের ক্রিয়াপদ [ক্রিয়াপদ] হয়। মাঝে মাঝে মূল ক্রিয়াপদের সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়াপদও যুক্ত হয়। কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকে, অর্থাৎ কর্তা অনুল্লেখিত থাকে। যেমন - আমার খাওয়া হল না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ) তোমার যাওয়া হবে না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ) এ পথে চলা যায় না। (সহযোগী ক্রিয়াপদ যুক্ত) কোথা থেকে আসা হচ্ছে। (সহযোগী ক্রিয়াপদ যুক্ত) এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। (কর্তা ‘তুমি’ উহ্য) এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
6
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ কি?
ক নীরদ
খ মার্তন্ড
গ অবনী
ঘ উদধি
সঠিক উত্তর: ঘ (উদধি)
ব্যাখ্যা:
নীরদ অর্থ মেঘ, মার্তন্ড অর্থ সূর্য, অবনী অর্থ পৃথিবী। সমুদ্র অর্থ সাগর,রত্নাকর,জলধি,সিন্ধু, বারিধি, বারীশ,উদধি,অর্ণব, অম্বুধি, পয়োধি, পারাবার,জলনিধি, নীলাম্বু, পাথার,পয়োনিধি, জলধর,অম্বুনিধি, তোয়নিধি, বারীশ,বারীন্দ্র।।।।
7
'নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি' এখানে নিশীথ কোন পদ?
ক ক্রিয়া বিশেষণ
খ বিশেষ্যর বিশেষণ
গ ক্রিয়া
ঘ বিশেষণ
সঠিক উত্তর: খ (বিশেষ্যর বিশেষণ)
ব্যাখ্যা:
নাম বিশেষণ : যে বিশেষণ পদ কোন বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষায়িত করে, অর্থাৎ অন্য কোন পদ সম্পর্কে কিছু বলে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যেমন - বিশেষ্যের বিশেষণ : নীল আকাশ আর সবুজ মাঠের মাঝ দিয়ে একটি ছোট্ট পাখি উড়ে যাচ্ছে। সর্বনামের বিশেষণ : সে রূপবান ও গুণবান।
8
'কুজ্ঝটিকা' শব্দের অর্থ হলোঃ
ক কুয়াশা
খ প্রভাকর
গ শৈল
ঘ অনুকার
সঠিক উত্তর: ক (কুয়াশা)
ব্যাখ্যা:
কুজ্ঝটিকা, কুজ্ঝটি, কুজ্ঝটী - [বিশেষ্য পদ] কুয়াশা, কুহেলিকা। এবং কুজ্ঝটিকা - শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ কুৎ + ঝটিকা।
9
'শকুনি মামা' এর অর্থ কি?
ক কুৎসিত মামা
খ কুচক্রী লোক
গ পাতানো মামা
ঘ সৎ মামা
সঠিক উত্তর: খ (কুচক্রী লোক)
ব্যাখ্যা:
বাগধারা : কোন শব্দ বা শব্দ - সমষ্টি বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে অর্থের দিক দিয়ে যখন বৈশিষ্ট্যময় হয়ে ওঠে, তখন সে সকল শব্দ বা শব্দ - সমষ্টিকে বাগধারা বা বাক্যরীতি বলা হয় । [বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম - দশম শ্রেণী] আক্ষরিক অর্থ ছাপিয়ে যখন কোনো শব্দ বা শব্দগুচ্ছ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে বাগধারা বা বিশিষ্টার্থক শব্দ বলে । বাগধারা মূলত কথ্য ভাষার সম্পদ হলেও তা এখন আর কেবল কথ্য ভাষায় সীমাবদ্ধ নেই । সাহিত্যে তার বিচরণ এখন যত্রতত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেমন - জান খারাপ, হাঁক দেওয়া, পকেট শুকিয়ে যাওয়া, বাজি মেরে দেওয়া [সৌদামিনী মালো; উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সংকলন] অর্থাৎ, একটি বা কয়েকটি শব্দ বাক্যে একত্রে ব্যবহৃত হয়ে যখন ঐ শব্দ বা শব্দগুচ্ছের সাধারণ অর্থ প্রকাশ না করে কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের বলা হয় বাগধারা বা বাক্যরীতি ।
10
'পার হইয়া' এই ক্রিয়া পদের সাধু রূপটি চলিত রূপে রূপান্তর করলে হবে?
ক পার হয়ে
খ পেরিয়ে
গ পার হইয়ে
ঘ পারায়ে
সঠিক উত্তর: খ (পেরিয়ে)
ব্যাখ্যা:
সাধুরীতি থেকে চলিতরীতিতে পরিবর্তনের নিয়ম: নিচে উল্লিখিত নিয়মগুলো অনুসরণ করে সাধু ভাষাকে চলিত ভাষায় রূপান্তরিত করা যায়: ১। ই - স্বরধ্বনির লোপ: ক্রিয়াপদের মধ্যে ই - স্বরধ্বনি থাকলে চলিত রীতিতে ই - স্বরধ্বনি লোপ পায়। যেমন—খাইব>খাব, আসিবে>আসবে। ২। উ - স্বরধ্বনির লোপ: চলিত রীতিতে উ - স্বরধ্বনি লোপ পায়। যেমন— হউক>হোক, থাউক>থাক। ৩। হ - কারের লোপ: চলিত ভাষায় রূপান্তরের সময় পদের মধ্যে হ - কারের লোপ হয়। যেমন— তাহা>তা, যাহা>যা। ৪। উ - ধ্বনির পরিবর্তন: পদের শেষে অ - আ স্বরধ্বনি থাকলে চলিতরীতিতে পূর্ববর্তী উ - স্বরধ্বনি ও - ধ্বনিতে পরিবর্তিত হয়। যেমন— শুন>শোন উঠে>ওঠে। ৫। আ - ধ্বনির পরিবর্তন: পূর্ববর্তী ই - ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী অক্ষরের আ - ধ্বনি এ - ধ্বনিতে পরিবর্তিত হয়। যেমন— গিয়া>গিয়ে মিঠা>মিঠে। ৬। অপিনিহিতি, অভিশ্রুতি ও স্বরসংগতির প্রভাবে পরিবর্তন: অপিনিহিত, অভিশ্রুতি ও স্বরসংগতির প্রভাবে সাধুরীতির পরিবর্তন ঘটে। যেমন— করিয়া>করে, ছুটিয়া>ছুটে।
11
'সিংহাসন' শব্দটি কোন সমাস?
ক ষষ্ঠী তৎপুরুষ
খ নিমিত্তার্থে চতুর্থী
গ নিত্য সমাস
ঘ মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর: ঘ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)
ব্যাখ্যা:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় - যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ, ব্রাহ্মণ ধর্মীয় প্রধান পুরোহিত = ব্রাহ্মণ পুরোহিত, জগতের রক্ষাকারী ঈশ্বর = জগদীশ্বর ।
12
নিচের কোনটি ভাব বাচ্যের উদাহরণ?
ক আমি আর গেলাম না
খ আম বোধ হয় পেঁকেছে
গ কুকুর লোকটিকে কামড়ালো
ঘ এবার মাছ ধরা যাক
সঠিক উত্তর: ঘ (এবার মাছ ধরা যাক)
ব্যাখ্যা:
ভাববাচ্য : বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রকাশিত হলে তাকে ভাববাচ্য বলে। এ ধরনের বাক্যে কর্ম থাকে না এবং কর্তাও প্রধান হয় না। কাউকে কোন কিছু সরাসরি না বলে ঘুরিয়ে বলতে গেলে ভাববাচ্যে বলা যায়। এ ধরনের বাক্যে কর্তায় - ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি হয়। নামপুরুষের ক্রিয়াপদ [ক্রিয়াপদ] হয়। মাঝে মাঝে মূল ক্রিয়াপদের সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়াপদও যুক্ত হয়। কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকে, অর্থাৎ কর্তা অনুল্লেখিত থাকে। যেমন - আমার খাওয়া হল না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ) তোমার যাওয়া হবে না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ) এ পথে চলা যায় না। (সহযোগী ক্রিয়াপদ যুক্ত) কোথা থেকে আসা হচ্ছে। (সহযোগী ক্রিয়াপদ যুক্ত) এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। (কর্তা ‘তুমি’ উহ্য) এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
13
'ব্যর্থ' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ হলোঃ
ক বি + আর্থ
খ বি + অর্থ
গ ব্যা + অর্থ
ঘ ব্য + অর্থ
সঠিক উত্তর: খ (বি + অর্থ)
ব্যাখ্যা:
ব্যর্থ - [বিশেষণ পদ] বিফল, নিরর্থক; অকৃতকার্য। [বিশেষ্য পদ] ব্যর্থতা। 'ব্যর্থ' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো - বি + অর্থ.
14
সমাস ভাষাকে ------
ক সংক্ষেপ করে
খ ভাষারূপ ক্ষুণ্ন করে
গ অর্থবোধক করে
ঘ বিস্তৃত করে
সঠিক উত্তর: ক (সংক্ষেপ করে)
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের একটি পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। বাংলা ভাষায় যে সকল প্রক্রিয়ায় নতুন পদ বা শব্দ তৈরি হয় সমাস তার একটি। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। যেমন: দোয়াত ও কলম = দোয়াতকলম, পীত অম্বর যার = পীতাম্বর (শ্রীকৃষ্ণ)। সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটিকে বলে সমস্ত পদ। যেমন: এখানে দোয়াতকলম, পীতাম্বর হলো সমস্ত পদ। সমস্ত পদ কতগুলো পদের মিলিত রুপ, এই প্রতিটি পদকে বলে সমস্যমান পদ। সমস্ত পদকে বিস্তৃত করে যে বাক্যাংশ পাওয়া যায় তাকে বলে সমাসবাক্য, ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য। সমাস শব্দের ব্যুৎপত্তি হলো সম + অস(ধাতু) + অ । সমাসের উদ্দেশ্য অল্পকথায় অধিক ভাব প্রকাশ করা । একটা বিরাট শব্দগুচ্ছকে সমাসের মাধ্যমে সংক্ষেপণ করা যায়। তবে সাহিত্যিক প্রয়োজনেই সংস্কৃত ভাষায় সমাসের আবির্ভাব হয়েছিল বলে মনে করা হয়। কারণ সাহিত্যমূলক কর্মে সমাসের ব্যবহার একে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
15
'অর্ধচন্দ্র' -এর অর্থ ------
ক গলা ধাক্কা দেয়া
খ দ্বিতীয়ত
গ কাস্তে
ঘ অমাবস্যা
সঠিক উত্তর: ক (গলা ধাক্কা দেয়া)
ব্যাখ্যা:
অর্ধচন্দ্র = অর্ধেক চন্দ্র বা চাঁদ। বাগধারাটার অর্থ "গলা ধাক্কা"। নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, আমরা যখন কাউকে গলা ধাক্কা দেই তখন আমাদের হাতটা তখন অর্ধেক চাঁদের মত দেখায়। সেখান থেকেই অর্ধচন্দ্র শব্দের উৎপত্তি।
0 টি সিলেক্টেড (লগইন ছাড়া ২০টি)